সোনারগাঁয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার খবর দিয়ে টাকা দাবি, প্রতারণার আশঙ্কা
সোনারগাঁ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা বলে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জামপুর মাঝেরচর মধুসূদন গৌড় কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে ফোন করে চিকিৎসার খরচ বাবদ অর্থ চাওয়া হয়। তবে বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করায় সম্ভাব্য প্রতারণা থেকে রক্ষা পান অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল স্যার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ওই পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হৃদয়, সজিত ও সামিয়ার অভিভাবকদের ফোন করে জানানো হয়, তাঁদের সন্তানরা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে এবং খানপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার কথা বলে দ্রুত টাকা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
সন্তানদের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকেরা। পরে তাঁরা বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করেন। এতে ফোনে দেওয়া তথ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় এবং সম্ভাব্য প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।
তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, ব্যবহৃত ফোন নম্বর কিংবা এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পোস্টে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অভিভাবকদের প্রতি সতর্কবার্তা
এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে সন্তান দুর্ঘটনায় পড়েছে বা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে ফোন এলে আতঙ্কিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শ্রেণিশিক্ষক অথবা পরিচিত অভিভাবকের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি থাকার কথা জানানো হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
কেউ প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানাতে হবে। পাশাপাশি ফোন নম্বর, কলের তথ্য, মেসেজ এবং আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিতভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই ধরনের প্রতারণা থেকে অন্যদের রক্ষা করতে যাচাই করা তথ্য প্রচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
